স্বাস্থ্য

উন্নত বিজ্ঞানের মাধ্যমে কঠিন ও দুরারোগ্য রক্তের সমস্যা দূর করা সম্ভব : ডাঃ তুফান দোলই

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ২৮শে ডিসেম্বর ২০১৯ : থ্যালাসেমিয়া, লিউকোমিয়া অথবা রক্তের বিভিন্ন রোগ দেখা যায়। কিন্তু ব্লাড ক্যানসার কিন্তু বর্তমানে নিরাময় করা সম্ভব।সব থেকে সমস্যা হল অধিকাংশ মানুষ ব্লাড ক্যানসার নিয়ে মানুষ আতঙ্কে ভোগেন। তাঁরা ভাবেন অন্যান্য ক্যানসারের মত ব্লাড ক্যানসারের থেকে রোগমুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। বিজ্ঞান উন্নত হওয়ার ফলে শিশুদের মেজর থ্যালাসেমিয়া এবং অন্যান্য মারাত্বক রক্তের সমস্যায় ভোগা রোগীরা এখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।কিন্তু এইধরনের রোগীদের জন্য প্রয়োজন চিকিৎসা, রোগীর কাউন্সিলিং ও রোগীর আত্মীয়দের সমবেদনা। এইরকম অবস্থায় “হেমাটোলজি এডুকেশন ও রিসার্চ ট্রাস্ট” (HERT) বেশ কিছু বছর ধরে কাজ করে চলেছে। “হেমাটোলজি এডুকেশন ও রিসার্চ ট্রাস্ট” (HERT) এমন একটা সংস্থা যেখানে রক্তের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রোগী ও তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে প্রতিবছর বার্ষিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২০১৯ সালে সংস্থা তাদের চতুর্থ বর্ষের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে “জাগরণ ২০১৯” মৌলালি যুব কেন্দ্রের প্রেক্ষাগৃহে।এই বার্ষিক অনুষ্ঠান শুধুমাত্র রোগী, রোগীর পরিবার, আত্মীয়, চিকিৎসক, মেডিকেল স্টাফ ও অন্যান্যদের নিয়ে একটা সম্মেলন নয়, এই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে প্রতিবছর সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়।কচিকাঁচাদের নৃত্যের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়।

চিকিৎসক তুফান কান্তি দোলই ভারতবর্ষের একজন প্রসিদ্ধ হেমাটোলজিস্ট যিনি এই অনুষ্ঠানে জানান, এই অনুষ্ঠান রোগী ও তাঁর বাড়ির পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভয়, আশঙ্কা, চিন্তা, হতাশা ও হাসপাতাল থেকে ভয়মুক্ত করে তাদের উৎসাহ, বিনোদন ও আশা জাগানর একটা ক্ষুদ্র প্রয়াস।এই অনুষ্ঠানে আজ অসংখ্য রোগী উপস্থিত হয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রোগীরা উপস্থিত ও বিভিন্ন রোগীদের সাথে আলাপচারিতার মধ্যে দিয়ে নিজের জীবনের হতাশা দূর করতে পারেন। সকলে একে অপরের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। শুধু ওষুধ বা চিকিৎসা দিয়ে একজন রোগীকে সুস্থ্য করা যায় না, সেই রোগীকে সামাজিকভাবে সহজ হতে দিতে হবে, সচেতনতা বা জাগরণের সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন যা তাদের রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শেখায়।

চিকিৎসক দোলই ১৭ বছর ধরে এই রোগীদের চিকিৎসা করে চলেছেন এবং সাথে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করেন।তিনি তাঁর এই চিকিৎসা জীবনে অসংখ্য মাইলোমা, হজকিনস ও নন হজকিনস লিমফোমিয়া, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া ও থ্যালাসেমিয়া রোগী দেখেছেন।তিনি বলেন ব্লাড ক্যান্সার একটি ভয়ঙ্কর রোগ এবং থ্যালাসেমিয়া জন্মগত। আজ আধুনিক রোগের উন্নতি এবং কেমো থেরাপি এবং অস্থি মজ্জা ট্রান্সপ্ল্যান্ট (বিএমটি) সহ সর্বশেষতম চিকিৎসার কারণে অনেক রোগী এই রোগগুলির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করে। এই জাতীয় রোগীদের নিরাময় করা, বেঁচে থাকা, দীর্ঘায়িত করা এবং রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্তদের একটি ভাল সংখ্যক সাধারণ জীবনে ফিরে আসা সত্যিই সম্ভব।এই কর্মসূচিটি শুধুমাত্র রোগের সাথে নয়, অগণিত সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বাধা নিয়েও তাদের লড়াই নিয়ে আলোচনা করা হয়। বেঁচে থাকা নিয়ে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তাদের দুঃখকষ্ট ও রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বর্ণনা করেন।অনুষ্ঠানের শেষে প্যানেল আলোচনার ব্যবস্থা করা হয় যেখানে বিষয় হল “জার্নি অফ হেমাটোলজিকাল পেশেন্ট তো আদার স্টেটস ফর ট্রিটমেন্ট”। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ রোগীদের উৎসাহ জাগাতে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে শ্রাবনী সেন রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন ও অম্রাপল্লি ডান্স অ্যাকাডেমি “ঊড়ান” নৃত্য পরিবেশন করে। এছাড়া ছিল আবৃত্তি ও ফর্থ বেল নাট্যগোষ্ঠীর নাটক উপস্থাপন।প্রচারে রিলেশনস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *