রাজনীতি

রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে বিদায়ী পৌরপিতা তরুণের স্ত্রী-র সাথে প্রার্থীর দাবিদার অনেক

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২০ : রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড দীর্ঘদিন বামেদের দখলে থাকলেও ২০০৯ সালে তা তৃণমূলের ক্ষমতায় আসে। ২০০৯ সাল থেকেই এই ওয়ার্ডের পৌরপিতা তরুণ কান্তি মন্ডল কিন্তু এবার এই ওয়ার্ড তপশিলি জাতি (মহিলা) হওয়াতে এবার এই ওয়ার্ড থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে তরুণ কান্তি মন্ডলের স্ত্রী-র। কিন্তু এখনও কিছুই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না কারণ এই ওয়ার্ডে তৃণমূলের প্রার্থীর তালিকায় অনেকগুলো নাম উঠে আসছে। এর প্রধান কারণ হল প্রথম পাঁচ বছর যেভাবে উন্নয়নের কাজ হয়েছিল পরের পাঁচ বছর কিন্তু মানুষ সেই উন্নয়নের ধারা চোখে দেখে নি। এর প্রভাব দেখা যায় লোকসভা নির্বাচনে। এই ওয়ার্ড থেকে বিজেপির কাছে অনেকটা পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল।

কঠিন হলেও যেটা বাস্তব সেটাকে মানতেই হবে।গড়িয়া স্টেশন থেকে যে প্রধান রাস্তা তার মেরামত হয় নি। এই ওয়ার্ডের অধিকাংশ মানুষ এই রাস্তাই ব্যবহার করে।এই ওয়ার্ডে নবগ্রামের বহু রাস্তা এখনও কাঁচা থেকে গেছে, বহু জায়গায় নিকাশি ব্যবস্থার জন্য ড্রেন বা হাই ড্রেন হয় নি। এই নবগ্রাম প্রতিবারই জয়ের মুখ দেখালেও অধিকাংশভাবে উন্নয়নে বঞ্চিত।কিন্তু যেখানে উন্নয়ন হয়েছে সেখান থেকেই মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে পৌরপিতা তরুণ কান্তি মন্ডলের দিক থেকে। মানুষ তরুণ কান্তি মন্ডলের দিকে মানুষের কোন ক্ষোভ বা অভিযোগ না থাকলেও উন্নয়ন নিয়ে মানুষের অনেক ক্ষোভ থেকে গেছে। যার প্রধান কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নতুন ভাবনা “দিদিকে বলো” কর্মসূচী। নিজের উন্নয়ন না করতে পারাকে তরুণ কান্তি মন্ডল পাস কাটিয়ে গেছেন এই কর্মসূচীতে। যদিও সাম্প্রতিক পৌরপিতা নবগ্রামের দিকে নজর দেওয়ার কথা বলেছেন। হাইড্রেনের কাজও হচ্ছে ওয়ার্ডে কিন্তু মানুষ সেই পুরানো কথা টেনে বলছে “ভোট আসছে তাই উন্নয়নের কাজ দেখাচ্ছে”।

এবারের নির্বাচনে ওয়ার্ড সংরক্ষণ হওয়ার কারণে তরুণ কান্তি মন্ডল আর তৃণমূলের প্রার্থী হতে পারবেন না জেনে নিজের স্ত্রী-র জায়গা মজবুত করার কথা ভাবছেন কিন্তু ওয়ার্ডে এবার দাবিদার অনেক। একসময়ের কংগ্রেস নেতা বর্ষীয়ান সুশীল কুমার মণ্ডলের পুত্রবধু লক্ষ্মী মন্ডলের নাম উঠে আসছে। এই সুশীল কুমার মন্ডল একসময় উইনিয়ন বোর্ডের অধ্যক্ষ ছিলেন এবং নরেন্দ্রপুর পঞ্চায়েতে কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। ওয়ার্ডে তাঁর অবদান প্রচুর। আজকের বিশ্ববানী প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে তাঁর অনুদান দেওয়া জমিতে। এমনকি নবশ্রী বাজারে শীতলা মন্দির হয়েছে তাঁরই দানের জমিতে। শুধু মন্ডলপাড়া নয় নবগ্রাম, বিবেকানন্দনগর থেকে শ্রীখন্ডার অনেকেই চাইছে এবার তাঁর পুত্রবধু লক্ষ্মী মন্ডল তৃণমূলের তরফে প্রার্থী হোক। সুশীল কুমার মন্ডলের পরিচিতি যেমন আছে পাশাপাশি জনপ্রিয়তাও আছে। তাই অনেকেই চাইছেন এবার তাঁর বাড়ি থেকেই তৃণমূল প্রার্থী হোক।এছাড়া লক্ষ্মী মন্ডল বিভিন্ন সমাজ সেবার সঙ্গে যুক্ত আছেন যেমন পোলিও, ডেঙ্গু, সেনসাস,গর্ভবতী মায়েদের ও শিশুদের‌‌‌ ‌‌টিকাকরনের কাজে নিযুক্ত আছেন ।ওয়ার্ডের মানুষের সঙ্গে ওনার ‌‌পরিচিতি খুব ভালো ।তাছাড়া উনি এই ৫ নং ওয়ার্ডের হেলথ সুপার ভাইজার আর ওয়ার্ড কমিটির মেম্বার।‌ আবার এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোনারপুর উত্তর যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পাপাই দত্তের স্ত্রী বানী দত্ত-র নামও উঠে আসছে। বানী দত্ত তৃণমূলের শাখা সংগঠন জয়হিন্দ বাহিনীর জেলায় গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন।সেক্ষেত্রে পাপাই দত্ত-র পরিচিত অনেক এবং জনপ্রিয়তাও যথেষ্ট।ওয়ার্ডের অনেকে চাইছেন প্রতিবার শ্রীখন্ডা থেকে পৌরভোটে তৃণমূলের প্রার্থী হয় একবার নবগ্রাম না হলেও নবগ্রাম ও শ্রীখন্ডা লাগোয়া অঞ্চল থেকে প্রার্থী হওয়া প্রয়োজন।এতে উন্নয়নের সাম্যতা থাকে। শ্রীখন্ডা থেকে প্রার্থী হওয়ার ফলে ওদিকের ৯টা বুথে উন্নয়ন হলেও নবগ্রামের বুথে সেভাবে উন্নয়ন হয় না।তাই এদিকটা এবারের নির্বাচনে একটা বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

যদিও তরুণ কান্তি মন্ডলের স্ত্রীর ব্যাপারে জেলা নেতৃত্বের দুজন চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রার্থীপদের জন্য কিন্তু বাকিরাও ছাড়ার পাত্র নয়। লক্ষ্মী মন্ডল ও বানী দত্ত তাদের মত যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্বের সাথে বলে খবরে প্রকাশ। সবটাই এখন দলীয় নেত্রী মমতা ব্যানার্জির হাতে। তবে এই ওয়ার্ডে বিজেপি একটা বড় ফ্যাক্টর হবে বলে বলা যেতেই পারে। বিজেপি বেগ দেওয়ার জন্য তাদের সংগঠনকে বেশ শক্তিশালী করে ফেলেছে।প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ অনুযায়ী এবার অনেক জায়গায় তৃণমূল নতুন মুখ দিতে চাইছে।তবে কি তার উদাহারণ হতে চলেছে রাজপুর সোনারপুরের ৫ নং ওয়ার্ড, প্রশ্ন অনেকের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *