বিনোদন

জীবনের আসল স্বাদ এবং ভালবাসার চরম শক্তির খোঁজ “পূর্ব পশ্চিম দক্ষিণ উত্তর আসবেই” মুক্তি ২৫শে অক্টোবর

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, কলকাতা, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৯ : “পূর্ব পশ্চিম দক্ষিণ উত্তর আসবেই” একেবারে একটা অন্য মাত্রার ছবি। বাংলায় অনেক ছবি হয়েছে কিন্তু এভাবে তিনটে ভিন্ন গল্পকে ভিন্ন রূপে তুলে ধরে শেষে তা এক সূত্রে মিলিয়ে দেওয়ার নাম সুচন্দ্রা ভানিয়া প্রযোজিত বাংলা ছবি “পূর্ব পশ্চিম দক্ষিণ উত্তর আসবেই”।মায়ের নামে, ঈশ্বরের নামে যেমন তন্ত্র সাধনা হয়, তেমনি দেশ জুড়ে অস্ত্রপাচারও হয়। তাই, আগের ছবির বিষয় তন্ত্র সাধনা বেছেছিলাম। তবে প্রধান কারণ, অভীক সরকারের বেস্ট সেলার ‘এবং ইনক্যুইজিশন’। ওটা পড়তে পড়তে গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল।

মনে হল, এই বিষয়টা পর্দায় ধরলে তন্ত্র নিয়ে যাঁরা বিশ্বাস এবং অবিশ্বাসে ভোগেন, উভয়পক্ষই উত্তর পাবেন।পূর্ব-পশ্চিম-দক্ষিণ-উত্তর….তিনি মেলাবেন? কথাগুলো ছবির টিসার রিলিজের দিল বলছিলেন ছবির নির্দেশক রাজর্ষি দে পাশে প্রযোজক ও অভিনেত্রী সুচন্দ্রা ভানিয়াকে নিয়ে। ভূত চতুর্দশীর আগে মুক্তি পাবে তাঁর ‘পূর্ব-পশ্চিম-দক্ষিণ….উত্তর আসবেই।’ কে মেলাবে এই চার দিককে? পরিচালক রাজর্ষি দে-র মতে, ‘সবটাই নাকি ঘটবে মায়ের কৃপায়! ‘পূর্ব-পশ্চিম-দক্ষিণ….উত্তর আসবেই’-এর গান ক’দিন আগেই শেষ হয়েছে। ছবির কাজ তার আগেই সারা।কিন্তু সব বিশ্বাসের মধ্যেই দুটো দিক থাকে ঠিক

এখানেও দেখানো হয়েছে মা চাইলে সবই হয়।হয়ত হয়, হয়ত নয় যে যেটায় বিশ্বাসী। এই দোলাচল এখন সবার মনে।তাই পরিচালক রাজর্ষি বললেন, ‘কোনটা হয় আর কোনটা নয়, আমি ঠিক করার কে? তবে দুটোই কিন্তু হয়। মায়ের নামে যেমন তন্ত্র সাধনা হয়।সুচন্দ্রা জানান, ছবিটা করার সময় মনে হল, এই বিষয়টা পর্দায় ধরলে তন্ত্র নিয়ে যাঁরা বিশ্বাস এবং অবিশ্বাসে ভোগেন, উভয়পক্ষই উত্তর পাবেন। তাই, বইয়ের প্রথম তিনটি উপন্যাস নিয়ে আমার ছবি ‘পূর্ব-পশ্চিম-দক্ষিণ….উত্তর আসবেই ‘।আমরা যা জানি, তার বাইরেও কিন্তু অনেক কিছু ঘটে। আমরা দেখতে পাই না বলে, সেগুলো ঘটে না, তা নয়। তাহলে কৌশিকী অমাবস্যায় এত লোকের ভিড় হয় কেন তারাপীঠে? আমি ভীষণ ভাবে বিশ্বাস করি পরাবাস্তব আছে। জীব এবং মরলোকের মধ্যে চূলচেরা ফাঁকের মতো। সেখানটা হয়ত এই তন্ত্রসাধনা ছুঁতে পারে। তন্ত্রের ভালো-মন্দ—দুটো দিকই আছে। এই ছবিতে দুটো দিকই দেখানো হয়েছে। তন্ত্রের মধ্যে যেমন ভক্তি দেখানো হয়েছে ঠিক একই ভাবে ভণ্ডামিও বাদ যায় নি। তবে সবার ওপরে থাকবে ভালোবাসা। কারণ, ঈশ্বরের কাছে ইতিবাচক বা নেতিবাচক, যে পথ দিয়েই পৌঁছোতে চান, শেষে সবটাই ভালোবাসায় পরিণত হত। এই ছবিও সেই বার্তা দেবে।

কীভাবে আসছে তিনটি গল্প? পরিচালক ‘ট্রেনে দুই সহযাত্রীর কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে প্রথম গল্প শুরু। সেই গল্প বলবে অনেক প্রাচীন সময়ের কথা। সেখান থেকে একে একে প্রবেশ দ্বিতীয় এবং তৃতীয় গল্পের। এই দুটি সমসায়ময়িক প্রেক্ষাপটে ধরা। তবে এই গল্পের কিন্তু রোজের জীবনে দেখা মেলে।’ ছবিতে অভিনয় করেছেন গোটা টলিউড আছেন রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়, বিদীপ্তা চক্রবর্তী, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, পদ্মনাভ দাশগুপ্ত, রাজেশ শর্মা, আরিয়ান ভৌমিক, মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়, রিচা শর্মা, গৌরব চক্রবর্তী, মালবিকা সেন, মানবী ব্যানার্জি সহ একঝাঁক শিল্পী। এছাড়া সুচন্দ্রা ভানিয়া তো আছেনই। অর্পিতা, কমলদা তো আমার তিনটি ছবিতে কাজ করেছেন। এঁরা ট্রেনের দুই সহযাত্রী। এঁদের হাত ধরেই বাকি চরিত্রের প্রবেশ। তবে মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা মানবী হিসেবেই দেখতে পাব। পরাণদা মাঝে মাঝেই এসে সমস্ত সমস্যা সমাধান করে দিয়ে যাবেন। কলকাতা আর পুরুলিয়ায় ছবির সমস্ত শুট হয়েছে।প্রাচীন প্রেক্ষাপটে যে গল্প আছে সেখানে পাহাড় ঘেরা যেরকম জায়গার বর্ণনা দেওয়া আছে সেই অনুযায়ী পুরুলিয়ায় রঘুনাথপুরের নীলডি পাহাড়ে শুট হয়েছে। দেবীকে এখানে ছিন্নমস্তা আর মাতঙ্গী রূপে দেখানো হয়েছে। উত্তর, তিন রূপে—তারা। মানুষের নানা অন্ধ বিশ্বাস, কালো জাদু, এমনকি পুনর্জন্মের বিষগুলোও রয়েছে রাজর্ষির এই ছবিতে।ছবিতে তিনটি গান রয়েছে। তিনটি গানই অনির্বাণ মুখোপাধ্যায়ের লেখা। সুর দেবজ্যোতি মিশ্রের। ‘ডাক শোনো’ গেয়েছেন অর্ক মুখোপাধ্যায়। ‘ভালোবাসা মানে’ গেয়েছেন রূপঙ্কর বাগচী। আর ইমন চক্রবর্তী গেয়েছেন ‘মিঠে রোদ্দুর’। পরিচালকের কথায়, ‘তিনটে গানই ভালোবাসার কথা বলবে। এই গান দেবজ্যোতি মিশ্রের সেরা গানগুলোর মধ্যে থাকবে।এছাড়া, শ্যামাসঙ্গীত আর স্ত্রোত্রপাঠ শোনা যাবে আবহে।’ সাম্প্রতিক ছবির টিজার লঞ্চ অনুষ্ঠিত হল শেক্সপিয়ার রোডের এফবিবিতে উপস্থিত ছিলেন সুচন্দ্রা ভানিয়া, গৌরব, আরিয়ান এবং পরিচালক রাজর্ষি সহ অনেকে।

কলকাতার ডাকাতে কালীবাড়িতে যে ছবির শুভ মহরৎ হল সেই ছবির মুক্তি কবে? রাজর্ষির তৃপ্তিমাখা উত্তর, ‘২৫ অক্টোবর। ভূত চতুদর্শীতে।’ ছবির নামটাও যেন রহস্যমাখা, পূর্ব-পশ্চিম-দক্ষিণ….উত্তর আসবেই। পরিচালকের ততধিক রহস্যজড়ানো উত্তর, ‘তিনটি গল্প, তাই তিনটি দিকের নাম।’উত্তর আসবেই’ ট্যাগলাইন। তিনটে গল্পের মধ্যে রয়েছে জীবন ও মৃত্যু, হিংস্রতা ও শান্তি এবং প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার মধ্যে লুকিয়ে আছে ভালোবাসা ও মানবিকতা। তিনটে গল্পের রয়েছে জীবনের আসল স্বাদ এবং ভালবাসার চরম শক্তি। ছবি দেখে আবার ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া যাবে, আবার বাঁচার স্বপ্ন দেখা যাবে, শ্বাস নেওয়ার কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে, নতুন জীবন ফিরে পাবে দর্শক। প্রচারে অ্যারন মিডিয়া। ছবি বিশ্বজিত সাহা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *