You cannot copy content of this page. This is the right with takmaa only

হেমন্ত-র জীবনের সব থেকে বড় পুরস্কার দিয়েছিলেন এক বৃদ্ধা শ্রোতা

অম্বর ভট্টাচার্য, তকমা নিউজ, কলকাতা, ১লা ডিসেম্বর ২০২৩ : তখন রাত প্রায় এগারটা। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় একটি ফাংশনে গান শেষ করে বাইরে এলেন। এমন সময় একজন অশীতিপর বৃদ্ধা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের নাম ধরে ডাকলেন ও বাবা হেমন্ত!
হেমন্ত ডাক শুনে দাঁড়িয়ে পড়লেন। এবার বৃদ্ধা হেমন্তের সামনে এলেন। হাতে একটা কাগজের ঠোঙা। কাগজের ঠোঙাটা হেমন্তের হাতে দিয়ে বললেন,

— ‘বাবা! এর মধ্যে চারটে নারকেল নাড়ু আছে তুমি খেও। আমি এই বয়েসে শুধু মাত্র তোমার গান শোনার জন্যে এত রাতে এসেছি।’

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কি বলবেন ভেবে পেলেন না!
ঠোঙাটা মাথায় ঠেকালেন। তারপর হেমন্ত বললেন,

— ‘মা! আমি জীবনে অনেক সম্মান টাকাকড়ি পেয়েছি। কিন্তু আজকে এই নারকেল নাড়ু আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ হয়ে রইল।’

এবার বৃদ্ধা বললেন বাবা একটা কথা বলবো?
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় বললেন, বলুন না মা?
বাবা! আজ তোমার গোটা পনের গান শুনলাম সবই ভাল লাগল কিন্তু আমার যে মন ভরল না। প্রিয় গানটা শুনতে পেলুম না। বড় আফশোস রয়ে গেল জীবনে।

এবার হেমন্ত বললেন কোন গানটা? বৃদ্ধা বললেন, ঐ বিষ্ণুপ্রিয়া গো, কি একটা গান আছে না? উত্তম কুমার সিনেমায় গেয়েছিল গো? ততক্ষণে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের যা বোঝার বোঝা হয়ে গেছে।

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় বৃদ্ধাকে গ্রীনরুমে নিয়ে গেলেন।স্টেজের কাছে একটা চেয়ারে বসতে বললেন।

তখন স্টেজে একজন শিল্পী গান গাইতে শুরু করেছেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় স্টেজে উঠে তাঁকে আস্তে করে কি বললেন। শিল্পী স্টেজ থেকে নেমে গেলেন।

হেমন্ত এবার স্টেজে এসে দর্শকদের বললেন, আপনাদের অনুমতি নিয়ে আমি আর একটি মাত্র গান গাইবো।
তারপর ” কুহক” সিনেমায় নিজের সুর করা সেই গানটা গাইলেন, ” বিষ্ণুপ্রিয়া গো তুমি আছো ঘুমঘোরে, আমি চলে যাই, আমি চলে যাই… “
আমি চলে” যা…ই” শব্দের সুরটা বেশ কিছুক্ষণ ধরে রেখে যখন হেমন্ত গানটা শেষ করলেন তখন সারা দর্শক যেন কোন মন্ত্রবলে স্তব্ধ হয়ে গেছে!

সেই বৃদ্ধার দু’চোখ দিয়ে টপটপ করে চোখের জল পড়তে লাগল!

গান শেষ করে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আস্তে আস্তে স্টেজ থেকে নেমে বৃদ্ধার কাছে গেলেন। গান শুনে বৃদ্ধা কেমন যেন হ’য়ে গেছেন।

শুধু মাথায় হাতটা ছুঁয়ে কোনক্রমে বললেন , দীর্ঘজীবী হও বাবা!

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ফুলশার্টের সাইড পকেটে হাত ঢুকিয়ে নারকোল নাড়ুর ঠোঙাটা একবার স্পর্শ করলেন। চশমার কাঁচ ঝাপসা হয়ে আসছে। বড় পুরস্কারটা পাওয়া হয়ে গেছে যে!

আজ তাঁর জন্মদিবসে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি..🌷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *