You cannot copy content of this page. This is the right with takmaa only

ইউনিসেফের উদ্যোগে মালদায় শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে তাক লাগিয়ে শিশুরা নিজেরা স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি বানালো

অম্বর ভট্টাচার্য, এবিপিতকমা, মালদা, ২৫শে জানুয়ারি ২০২০ : সারা দেশে একমাত্র ইউনিসেফ, তালাশ ও সিনে সেন্ট্রালের যৌথ উদ্যোগে মালদায় ১৯তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করে। তালাশের পক্ষ থেকে আয়সা সিনহা জানান, শিশু চলচ্চিত্র উৎসব শিশুদের বিকাশ ঘটায় ও চিন্তনশীলতা বৃদ্ধি করে। এবছর প্রথমবার মালদার শিশুরা নিজেরাই স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি তৈরি করে চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে। মালদার শিশুরা নিজেরাই ছবির বিষয়, চিত্রনাট্য, প্রি প্রোডাকশান, শুটিং ও পোস্ট প্রোডাকশানের কাজ দায়িত্ব নিয়ে সম্পন্ন করেছে। এটা খুবই গর্বের যে এই শিশুরা নিজেরাই নির্দেশনা ও অভিনয় করেছে। তালাশের শিশুরা নিজেদের গ্রামের জীবনের মধ্যে থেকে বিষয় নির্বাচন করে এবং তার উপর ভিত্তি করে চিত্রনাট্য তৈরি করে সমাজে সচেতনতা বিস্তার করে।

তালাশের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার পর ওয়াশিম আক্রাম এবারের চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে বলতে গিয়ে জানায়, আমি সত্যি আশ্চর্য্য হয়ে গেছি যে নিজেরাই ছবির বিষয় নির্নয় করে, তার চিত্রনাট্য লিখে, নির্দেশনা দিয়েছি এবং অভিনয়ও করেছি। ক্যামেরার কাজ থেকে এডিটিং সবটাই আমরা করতে পেরেছি। আমাদের নিজেদের তৈরি করা ছবি চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হচ্ছে ভেবেই একটা অন্য অনুভূতি হচ্ছে।

ADVT

দীপা অগ্রবাল বলে, আমরা আজ যতটা এগোতে পেরেছি তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তালাশের। তালাশ আমাদের ভাবতে শিখিয়েছে, বলতে শিখিয়েছে, এগোতে শিখিয়েছে, নিজেদের রক্ষা করতে শিখিয়েছে এবং সর্বপরি সমাজকে ভাবাতে শিখিয়েছে। আমরা আজ সমাজের সামনে গিয়ে তাদের ভাবতে বাধ্য করছি, সচেতন করছি।

সন্তোষী দাস বলে, আমি তালাশের সাথে প্রথমদিন থেকে যুক্ত। তালাশের সাথে যুক্ত হয়ে আমি শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করি, এরফলে নিজের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আমার স্কুলের বন্ধুরা, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, আত্মীয় ও প্রতিবেশিরা আশ্চর্য্য হয়ে যায় যে কিকরে এরকম একটা উচ্চমানের একটা চলচ্চিত্র উৎসবের দায়িত্ব নিয়ে তা সম্পন্ন করছি।

শিশু চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে মালদা জেলাশাসকের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১২ সাল থেকে তালাশ মালদা জেলা প্রশাসনের সাথে যৌথ উদ্যোগে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় সামাজিক সচেতনতার কাজ করে চলেছে। গ্রামের শিশুদের পাঁচ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশুদের বিশেষ করে যুবতীদের আত্মরক্ষা, প্রশিক্ষক, আইনগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নেতৃত্ব প্রদান, চিন্তনশীলতা ও বাচনশিল্পের মাধ্যমে নেতৃত্ব প্রদান ও দলনায়ক হয়ে ওঠার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। বর্তমানে ৮৬৫টি গোষ্ঠী নেতৃত্ব গোটা মালদায় গ্রামাঞ্চলে কাজ করছে। তারা কোথাও বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াচ্ছে, কোথাও আবার শিশু পাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সাথে সহযোগিতা করছে।

প্রায় এক যুগ ধরে ইউনিসেফ মালদায় এই আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে সহযোগিতা করে আসছে। আজ মালদায় এই শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে শিশুদের উপর অত্যাচার বন্ধ করার জন্য সোচ্চার হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প, কর্মসূচী, ফিলম স্ক্রিনিং ও ওয়ার্কশপের মাধ্যমে শিশুদের স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে সাহায্য করছে।

ইউনিসেফের কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ মৌমিতা দোস্তিদার জানান, তালাশের সাথে ইউনিসেফে যুক্ত হয়ে বেশ গর্বিত। প্রতিবছর তাদের সাথে এভাবে একটা উন্নতমানের চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করতে পারছে।এবছর সাতটা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রস্তুত করে তা প্রদর্শনীতে দেখানোর ব্যবস্থা করেছে এই মালদা জেলার শিশুরা। তারা তাদের প্রতিদিনের জীবনের সমস্যার কথা তুলে ধরতে শিখেছে, সামাজিক যন্ত্রণার কথা তুলে ধরতে শিখেছে। মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে, সচেতন করেছে।ইউনিসেফ তাদের কাজে শুধুমাত্র অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছে মাত্র।

এবারের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সূচনা হয় মালদা সানাউল্লা মঞ্চে।প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক অরুণ কুমার রায়, অনিল কুমার কুনয়া, মহকুমা শাসক (সদর) সুরেশ চন্দ্র রানো, ইউনিসেফের পক্ষ থেকে মৌমিতা ঘোষ দোস্তিদার ও স্বপ্নদীপা বিশ্বাস, তালাশের পক্ষ থেকে আয়েশা সিনহা, মালদা পৌরসভার চেয়ারপার্সেন চৈতালী ঘোষ সরকার এবং পরিচালক দেবাশিস সেন শর্মা। মঞ্চে উপস্থিত সকল বিশেষ অতিথিদের বরণ করে নেয় তালাশের শিশুরা। এরপর অরুণ কুমার রায় তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমার খুব গর্ব বোধ হচ্ছে এরকম একটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে। ভাবতে পারিনি যে এই জেলার শিশুদের মধ্যে এরকম মেধা আছে একটা সম্পূর্ণ ছবি তৈরি করে তা জেলার অন্যান্য শিশুদের প্রদর্শন করবে। আমি গর্বের সাথে বলবো আগামীদিনে এই জেলা থেকে বিশ্বমানের চিত্র পরিচালক তৈরি হবে। এই অনুষ্ঠানে না আসলে এই লুকিয়ে থাকা প্রতিভা জানতেই পারতাম না। ইউনিসেফ একটা আন্তর্জাতিক সংগঠন, তারা এই রাজ্যের একটা সমাজসেবী সংগঠন তালাশের সাথে যেভাবে এই জেলাকে উন্নত করতে ও আত্মরক্ষা করতে শেখাচ্ছে তা সত্যিই প্রশংসার।এর ফলে প্রশাসনের অনেক উপকার হচ্ছে।

মালদা জেলার সমগ্র শিশুদের জন্য ১৯তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে কোন প্রবেশ মূল্য রাখা হয় নি। স্কুলের প্রচুর ছাত্রছাত্রী এই উৎসবের ৭টা ছবি দেখার জন্য উপস্থিত ছিল। উৎসবে দেখানো হয় ওয়াসিম আক্রাম ও সাবেদ আলি পরিচালিত “এক অ পুরুষের গল্প”, আর্জিনা খাতুন ও শিউলি খাতুন পরিচালিত “কো লিঙ্গ”, দীপা অগ্রবাল ও দীপিকা পাল পরিচালিত “স্বপ্ন দেখবো বলে”, কালাপি বর্মন ও নাফিসা খাতুন পরিচালিত “বাল্য বিবাহঃ এক আবশ্যিক না”, সাগরিকা বাঞ্জুরিয়া পরিচালিত “বিপন্ন পরিবেশ”, “সানাই” এবং “সৎপাত্র”। প্রচারে লঞ্চার্স।

Entry will be free for all children and their guardians for all film shows in this festival.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *