You cannot copy content of this page. This is the right with takmaa only

জানেন কি? কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের টেলিফোন নম্বর ছিল ১৯৪৫

অম্বর ভট্টাচার্য, তকমা নিউজ, কলকাতা, ২৬ শে নভেম্বর ২০২৩ : সময়কাল ২৮ জানুয়ারি ১৮৮২। ভারতীয় টেলিফোনের ইতিহাসে সেটি এক স্মরণীয় দিন। ওই দিন গভর্নর জেনারেল’স কাউন্সিলের সদস্য মেজর ই বারিং কলকাতার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের উদ্বোধন করেন। আর তার নাম দেওয়া হয় ‘সেন্ট্রাল এক্সচেঞ্জ’। একেবারে গোড়ার দিকে কলকাতায় টেলিফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৫০। সেটা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ব্যক্তিগত কাজে কলকাতায় প্রথম টেলিফোন ব্যবহার করেন বাবু সাগরলাল দত্ত। তাঁর ছিল ব্যবসা। থাকতেন ১৪ গোপালচন্দ্র লেনে। এই রাস্তা মধ্য কলকাতার কলুটোলা অঞ্চলে অবস্থিত। প্রাতিষ্ঠানিক বিচারে একটি মাত্র বাঙালি প্রতিষ্ঠান তখন টেলিফোন ব্যবহার করত- শিবকৃষ্ণ দাঁ অ্যান্ড কোং।

আগেই বলেছি প্রথম দিকের তুলনায় টেলিফোন কোম্পানির ব্যবসা ধীরে ধীরে বাড়ছিল। ১৮৮২ সালের জুন মাসে কলকাতায় টেলিফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে হয় ৯৩। তার ফলে টেলিফোন কোম্পানি কলকাতায় প্রথম যে গাইড বই বা ডিরেক্টরি প্রকাশ করে তার ১ পাতার মধ্যেই সমস্ত গ্রাহকের নাম ধরে গিয়েছিল।

ফিরে দেখা ইতিহাস:

১৮৭৬ সালে গ্রাহাম বেলের টেলিফোন আবিষ্কারের ৩ বছরের মধ্যে যোগাযোগের এই যন্ত্র গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮৭৯ সালে লন্ডনের অনেকেই যখন টেলিফোন ব্যবহার করতে শুরু করেছেন, তখন ইংরেজ ব্যবসায়ীরা দ্রুত ভারত তথা কলকাতায় টেলিফোন নিয়ে আসতে চাইল।

‘দি অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান টেলিফোন কোম্পানি লিমিটেড’ প্রাথমিক ভাবে এই ব্যবসা করার আবেদন করলেও সে সময়ে সরকারের একচেটিয়া ভাবে রমরম করে চলতে থাকা টেলিগ্রাফের ব্যবসার মার খাওয়ার ভয়ে সরকারি তরফে টেলিফোনের ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে টেলিফোনের জনপ্রিয়তার অপ্রতিরোদ্ধ গতিকে বেশি দিন ও ভাবে রুদ্ধ করে রাখা যায়নি। ১৮৮১ সালে ‘দি ওরিয়েন্টাল টেলিফোন কোম্পানি লিমিটেড’ ব্যবসার ছাড়পত্র পেয়ে যায়। এরা ছিল ইংল্যান্ডের আন্তর্জাতিক টেলিফোন ব্যবসাকারী সংস্থা। ওই বছরের ১৫ নভেম্বর কিছু শর্ত সাপেক্ষে ভারতে টেলিফোন এক্সচেঞ্জ বানানোর অনুমতি দেওয়া হয়। ৭ কাউন্সিল হাউস স্ট্রিটের চারতলায় প্রথম এক্সচেঞ্জ স্থাপিত হয়। ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়া হয় বোম্বাই, মাদ্রাজ, করাচি ও আহমেদাবাদেও। সেখানেও এক্সচেঞ্জ স্থাপিত হয়।

১৯২৪ সালের টেলিফোন ডাইরেক্টরি তে রবীন্দ্রনাথের নাম পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর ফোন নম্বর ছিল ১৯৪৫। ডাইরেক্টরিতে লেখা ছিল স্যার রবীন্দ্রনাথ টেগোর, বড়বাজার ১৯৪৫। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের ফোন নম্বর ছিল দক্ষিণ -৬১৮। শান্তিনিকেতনে যেদিন টেলিফোন এল সেদিন তো রীতিমতো আড়ম্বর লেগে গিয়েছিল। কবিতা শুনিয়ে টেলিফোন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *